নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আঙুল বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৮ জুন কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহ-সভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে পেশিশক্তির অপব্যবহারসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার যুবদল নেবে না। পাশাপাশি দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জাফরুল হাসান লিসান (২৫)। তিনি পশ্চিম এনায়েতনগর এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে এবং বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিও ছিলেন।
লিসানের অভিযোগ, তাদের প্রায় পৌনে ৩ শতাংশ জমিতে দোকান বা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর আনোয়ার ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে আনোয়ার ও তার কয়েকজন অনুসারী সেখানে এসে বাধা দেন এবং পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। এ সময় গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে আনোয়ার হাতে থাকা শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার জন্য হাত তুলে ধরলে শাবলের আঘাতে তার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন আঙুলটি পুনরায় সংযুক্ত করেন। তবে চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আঙুলটিতে জটিলতা দেখা দিলে ভবিষ্যতে সেটি অপসারণ করতে হতে পারে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার ২০০৬ সালের একটি ডাকাতি মামলার আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম) আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আঙুল বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৮ জুন কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহ-সভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে পেশিশক্তির অপব্যবহারসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার যুবদল নেবে না। পাশাপাশি দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম জাফরুল হাসান লিসান (২৫)। তিনি পশ্চিম এনায়েতনগর এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে এবং বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিও ছিলেন।
লিসানের অভিযোগ, তাদের প্রায় পৌনে ৩ শতাংশ জমিতে দোকান বা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর আনোয়ার ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে আনোয়ার ও তার কয়েকজন অনুসারী সেখানে এসে বাধা দেন এবং পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। এ সময় গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে আনোয়ার হাতে থাকা শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার জন্য হাত তুলে ধরলে শাবলের আঘাতে তার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন আঙুলটি পুনরায় সংযুক্ত করেন। তবে চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আঙুলটিতে জটিলতা দেখা দিলে ভবিষ্যতে সেটি অপসারণ করতে হতে পারে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার ২০০৬ সালের একটি ডাকাতি মামলার আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম) আদালত তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় পুনরায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন