ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া মো. সাদিকের শীতলক্ষ্যা নদীতে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক সালেহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে ঘটনার সব দিক পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার গোয়ালন্দ বাজার এলাকার কুমরাকান্দি গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বাসিন্দা মো. সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণের কাজ চলাকালে তিনি নদীতে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রায় আট ঘণ্টা পরে সহকর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
সূত্র আরও জানায়, নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে প্রায়ই কচুরিপানা জমে যাওয়ায় সেগুলো পরিষ্কার করার জন্য তিনজন ডুবুরি তিনটি স্পিডবোট নিয়ে কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে স্পিডবোটের সামনে অবস্থান করা সাদিক ঢেউয়ের ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।
উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় সাদিক হয়তো স্পিডবোট ও পাশের পল্টুনের নিচে চলে গিয়ে দিক নির্ণয় করতে পারেননি। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্রোতের টানে মরদেহ ভেসে গেলেও কোথাও আটকে থাকার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে থাকা অন্য দুই ডুবুরির ধারণা, নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় সাদিকের মাথায় আঘাত লাগতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, মো. সাদিক গত বছর ফায়ার সার্ভিসের শ্রেষ্ঠ ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদক অর্জন করেন। এছাড়া সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের একটি লেকে ডুবে যাওয়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের অভিযানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রাণ হারালেন এই অভিজ্ঞ ডুবুরি।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া মো. সাদিকের শীতলক্ষ্যা নদীতে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক সালেহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে ঘটনার সব দিক পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার গোয়ালন্দ বাজার এলাকার কুমরাকান্দি গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বাসিন্দা মো. সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণের কাজ চলাকালে তিনি নদীতে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রায় আট ঘণ্টা পরে সহকর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
সূত্র আরও জানায়, নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে প্রায়ই কচুরিপানা জমে যাওয়ায় সেগুলো পরিষ্কার করার জন্য তিনজন ডুবুরি তিনটি স্পিডবোট নিয়ে কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে স্পিডবোটের সামনে অবস্থান করা সাদিক ঢেউয়ের ধাক্কায় ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান।
উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় সাদিক হয়তো স্পিডবোট ও পাশের পল্টুনের নিচে চলে গিয়ে দিক নির্ণয় করতে পারেননি। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্রোতের টানে মরদেহ ভেসে গেলেও কোথাও আটকে থাকার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে থাকা অন্য দুই ডুবুরির ধারণা, নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় সাদিকের মাথায় আঘাত লাগতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, মো. সাদিক গত বছর ফায়ার সার্ভিসের শ্রেষ্ঠ ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পদক অর্জন করেন। এছাড়া সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের একটি লেকে ডুবে যাওয়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের অভিযানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রাণ হারালেন এই অভিজ্ঞ ডুবুরি।

আপনার মতামত লিখুন