জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ, আহত যোদ্ধাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকার গ্রীন গার্ডেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা সহায়তা এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। শহীদদের সম্মান বজায় রাখতে সহায়তা দেওয়ার সময় ছবি তোলার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরে ভুলে যাওয়া হয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনা থেকে সরে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের চেয়ে প্রয়োজন সংস্কার এবং অন্যায় কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আহত যোদ্ধারা তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল জব্বার বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন ও অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। সরকার পাশে থাকুক বা না থাকুক, জামায়াতে ইসলামী শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবে বলে তিনি জানান। এই সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং দায়িত্ববোধ থেকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, শহীদদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক উঁচু। জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মমিনুল হক সরকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে অনীহা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সভায় শহীদ রুবেলের স্ত্রী রুপা আক্তার, শহীদ রাজুর স্ত্রী আকলিমা, শহীদ পারভেজের বোন রোকসানা, শহীদ শাহীনের বাবা মো. হাসান, শহীদ হৃদয়ের মা, শহীদ জোবায়েরের ভাই অ্যাডভোকেট পিয়াস, শহীদ আদিলের পিতা ও ২৪-এর শহীদ পরিবার সোসাইটির সেক্রেটারি মো. আবুল কালাম এবং শহীদ মাবরুরের পিতা আব্দুল হাই বক্তব্য দেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি জামাল হোসাইন, এইচ এম নাসির উদ্দিন, কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকির হোসাইন, হাফেজ আব্দুল মোমিনসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ, আহত যোদ্ধাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকার গ্রীন গার্ডেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা সহায়তা এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। শহীদদের সম্মান বজায় রাখতে সহায়তা দেওয়ার সময় ছবি তোলার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পরে ভুলে যাওয়া হয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনা থেকে সরে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের চেয়ে প্রয়োজন সংস্কার এবং অন্যায় কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আহত যোদ্ধারা তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল জব্বার বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন ও অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। সরকার পাশে থাকুক বা না থাকুক, জামায়াতে ইসলামী শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবে বলে তিনি জানান। এই সম্পর্ক কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং দায়িত্ববোধ থেকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, শহীদদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক উঁচু। জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মমিনুল হক সরকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে অনীহা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সভায় শহীদ রুবেলের স্ত্রী রুপা আক্তার, শহীদ রাজুর স্ত্রী আকলিমা, শহীদ পারভেজের বোন রোকসানা, শহীদ শাহীনের বাবা মো. হাসান, শহীদ হৃদয়ের মা, শহীদ জোবায়েরের ভাই অ্যাডভোকেট পিয়াস, শহীদ আদিলের পিতা ও ২৪-এর শহীদ পরিবার সোসাইটির সেক্রেটারি মো. আবুল কালাম এবং শহীদ মাবরুরের পিতা আব্দুল হাই বক্তব্য দেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি জামাল হোসাইন, এইচ এম নাসির উদ্দিন, কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাকির হোসাইন, হাফেজ আব্দুল মোমিনসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন।

আপনার মতামত লিখুন