বি পি নিউজ ২৪

জুলাই স্মরণ: অস্ত্রধারীদের রুখে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন রাইয়ান হক



জুলাই স্মরণ: অস্ত্রধারীদের রুখে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন রাইয়ান হক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে রাজপথে যেমন ছিল প্রকাশ্য প্রতিরোধ, তেমনি চলছিল নেপথ্যের নিরবচ্ছিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম। সেই নেপথ্যের সক্রিয় মুখগুলোর একজন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইয়ান হক। আন্দোলনের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নানা উদ্যোগের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও আন্দোলনকারীদের পাশে থেকে আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন।

আন্দোলন ঘিরে যখন একের পর এক সংঘাত, ধরপাকড় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন অনেক নেতাকর্মী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েন। স্বৈরাচারী হাসিনাকে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দু থেকে নামানো ছাড়া আর কোন উপায় যেন ছিলো না। এমন পরিস্থিতিতে যখন দলের নেতা-কর্মীরা নতুন নতুন মামলা-হামলা আর গ্রেপ্তারের আতঙ্কে ঠিক সে সময়ে রাইয়ান নিজের প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতার সমন্বয়ে রাজপথে থেকে বিভিন্নভাবে নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে নীরবে কাজ করেন রাইয়ান হক। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে দিন-রাত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খোঁজখবর রাখতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন।

গডফাদার শামীম ওসমান যখন অস্ত্র হাতে মাঠে নামেন সে সময়ে রাইয়ান আন্দোলনকারীদের পাশে থেকে একাত্বতা প্রকাশ করে তাদের শক্তি যুগিয়েছেন। 

বিশেষ করে চাষাঢ়া বালুর মাঠ, শহীদ মিনার, রাইফেল ক্লাব, আদালত প্রাঙ্গন, ভুইগর সকল স্থানে ছিলো রাইয়ানের পদচারণা। 

নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড আন্দোলনকারীদের দখলে রাখায় রাইয়ানের ভূমিকা ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিংক রোড ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে আন্দোলন যখন কিছুটা থমকে যাচ্ছিলো ঠিক সে সময়ে আন্দোলনের ফুয়েল হয়ে আসেন এই নেতা। যোগাযোগের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি মহাসড়কে আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো সুসংগঠিত করতে এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। 

আন্দোলনের উত্তপ্ত দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে তাদের মনোবল ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন অনেকেই। রাজপথে উপস্থিত থেকে তিনি আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছেন এবং সংকটময় পরিস্থিতিতেও কর্মসূচি চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা।

দলের নেতাকর্মীদের অনেকের মতে, রাইয়ান হকের সামনের সারিতে উপস্থিতি তাদের জন্য মানসিক শক্তি হিসেবে কাজ করত। সংঘাতের আশঙ্কা কিংবা চাপের মধ্যেও তিনি রাজপথে থাকায় অন্যরাও আন্দোলনে সক্রিয় থাকার অনুপ্রেরণা পেতেন। তাদের ভাষায়, তিনি শুধু একজন সংগঠক ছিলেন না, বরং কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার অন্যতম উৎস ছিলেন।

জুলাইয়ের সেই আন্দোলনে প্রকাশ্য কর্মসূচির পাশাপাশি নেপথ্যের সমন্বয়, যোগাযোগ এবং মনোবল অটুট রাখার বিষয়গুলোও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দুই বছর পর আন্দোলনের স্মৃতিচারণে রাইয়ান হকের এমন সাংগঠনিক ভূমিকার কথাও নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে। তার সঙ্গে কাজ করা নেতাকর্মীদের দাবি, সংকটময় সেই সময়ে তিনি নীরবে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬


জুলাই স্মরণ: অস্ত্রধারীদের রুখে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন রাইয়ান হক

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে রাজপথে যেমন ছিল প্রকাশ্য প্রতিরোধ, তেমনি চলছিল নেপথ্যের নিরবচ্ছিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম। সেই নেপথ্যের সক্রিয় মুখগুলোর একজন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইয়ান হক। আন্দোলনের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নানা উদ্যোগের মাধ্যমে নেতাকর্মী ও আন্দোলনকারীদের পাশে থেকে আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেন।


আন্দোলন ঘিরে যখন একের পর এক সংঘাত, ধরপাকড় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন অনেক নেতাকর্মী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েন। স্বৈরাচারী হাসিনাকে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দু থেকে নামানো ছাড়া আর কোন উপায় যেন ছিলো না। এমন পরিস্থিতিতে যখন দলের নেতা-কর্মীরা নতুন নতুন মামলা-হামলা আর গ্রেপ্তারের আতঙ্কে ঠিক সে সময়ে রাইয়ান নিজের প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতার সমন্বয়ে রাজপথে থেকে বিভিন্নভাবে নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে নীরবে কাজ করেন রাইয়ান হক। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে দিন-রাত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খোঁজখবর রাখতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন।


গডফাদার শামীম ওসমান যখন অস্ত্র হাতে মাঠে নামেন সে সময়ে রাইয়ান আন্দোলনকারীদের পাশে থেকে একাত্বতা প্রকাশ করে তাদের শক্তি যুগিয়েছেন। 

বিশেষ করে চাষাঢ়া বালুর মাঠ, শহীদ মিনার, রাইফেল ক্লাব, আদালত প্রাঙ্গন, ভুইগর সকল স্থানে ছিলো রাইয়ানের পদচারণা। 

নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড আন্দোলনকারীদের দখলে রাখায় রাইয়ানের ভূমিকা ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিংক রোড ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে আন্দোলন যখন কিছুটা থমকে যাচ্ছিলো ঠিক সে সময়ে আন্দোলনের ফুয়েল হয়ে আসেন এই নেতা। যোগাযোগের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি মহাসড়কে আন্দোলনের কর্মসূচিগুলো সুসংগঠিত করতে এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। 



আন্দোলনের উত্তপ্ত দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে তাদের মনোবল ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন অনেকেই। রাজপথে উপস্থিত থেকে তিনি আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছেন এবং সংকটময় পরিস্থিতিতেও কর্মসূচি চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা।


দলের নেতাকর্মীদের অনেকের মতে, রাইয়ান হকের সামনের সারিতে উপস্থিতি তাদের জন্য মানসিক শক্তি হিসেবে কাজ করত। সংঘাতের আশঙ্কা কিংবা চাপের মধ্যেও তিনি রাজপথে থাকায় অন্যরাও আন্দোলনে সক্রিয় থাকার অনুপ্রেরণা পেতেন। তাদের ভাষায়, তিনি শুধু একজন সংগঠক ছিলেন না, বরং কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার অন্যতম উৎস ছিলেন।


জুলাইয়ের সেই আন্দোলনে প্রকাশ্য কর্মসূচির পাশাপাশি নেপথ্যের সমন্বয়, যোগাযোগ এবং মনোবল অটুট রাখার বিষয়গুলোও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দুই বছর পর আন্দোলনের স্মৃতিচারণে রাইয়ান হকের এমন সাংগঠনিক ভূমিকার কথাও নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে। তার সঙ্গে কাজ করা নেতাকর্মীদের দাবি, সংকটময় সেই সময়ে তিনি নীরবে যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ