বি পি নিউজ ২৪

বড় সরদার বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১২ দফা স্মারকলিপি


প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বড় সরদার বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১২ দফা স্মারকলিপি

সোনারগাঁয়ের প্রায় পাঁচ শতাব্দী পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা বড় সরদার বাড়ির সংরক্ষণ পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের স্বাক্ষরে স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়। এতে ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ির কারিগরি পরীক্ষা থেকে শুরু করে ফাউন্ডেশনের আর্থিক কার্যক্রমের স্বাধীন নিরীক্ষা এবং প্রকৃত কারুশিল্পীদের অধিকার নিশ্চিত করাসহ মোট ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপির অনুলিপি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়িতে টানা চার দিন বাণিজ্যিক শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়। এ সময় উচ্চক্ষমতার জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা, ক্যামেরা ক্রেন, ট্রলি, সাউন্ড সিস্টেম এবং শক্তিশালী আলোকসজ্জার বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।

এই শুটিংয়ের কারণে স্থাপনাটির কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে কমিটি। তাদের প্রশ্ন, শুটিংয়ের আগে স্থাপনাটির ওপর কোনো হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছিল কি না, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না।

এ ছাড়া ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। কমিটির আশঙ্কা, জেনারেটরের কম্পন, ভারী সরঞ্জামের চলাচল এবং দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র আলোর তাপ পুরোনো স্থাপনাটির গাঁথুনি, চুনসুরকি, কাঠ, প্লাস্টার, মেঝে ও অলংকরণে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ জন্য প্রত্নতত্ত্ববিদ, সংরক্ষণ স্থপতি ও কাঠামো প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল গঠনের আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে শুটিংয়ের আগের সংরক্ষণ নথি ও স্থাপনার আলোকচিত্রের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা তুলনা করে কারিগরি মূল্যায়নের কথাও বলা হয়েছে।

শুধু বড় সরদার বাড়ির বিষয় নয়, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়েও স্মারকলিপিতে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির অভিযোগ, প্রকৃত কারুশিল্পীদের পরিবর্তে সুবিধাজনক স্থানে অকারুশিল্পীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ফাউন্ডেশনের সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন, বিভিন্ন নির্মাণ ও মেরামতকাজ, শ্রমিক বিল, স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, কারুশিল্পীদের কাঁচামাল কেনা এবং সরকারি অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখাসহ বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও স্বাধীন তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এসব অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য কার্যাদেশ, টেন্ডার ও কোটেশন, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক হিসাব, শ্রমিকদের হাজিরা, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড, দোকান বরাদ্দের তালিকা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি পরিবর্তন, সরিয়ে নেওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ঠেকাতে প্রশাসনিকভাবে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে কারুপল্লীর প্রকৃত কারুশিল্পীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির দাবি, অনেক প্রকৃত কারুশিল্পীর দোকান এমন জায়গায় রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীদের সহজে যাতায়াতের সুযোগ নেই। বিপরীতে, সুবিধাজনক স্থানে অকারুশিল্পীদের দোকান বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় প্রকৃত কারুশিল্পীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কারুশিল্পী হিসেবে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু এবং প্রধান প্রবেশপথ থেকে কারুপল্লী পর্যন্ত দর্শনার্থীদের দিকনির্দেশনা দিতে স্পষ্ট সাইনেজ স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

১২ দফা দাবির মধ্যে ঐতিহাসিক স্থাপনায় বাণিজ্যিক শুটিং বা বড় আয়োজনের আগে বাধ্যতামূলক হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট, ঐতিহাসিক স্থাপনার বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন, দোকান বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত তদন্ত কমিশন ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে সংরক্ষণ কমিটি।

কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ কায়েস বলেন, তারা কোনো অভিযোগকেই তদন্তের আগেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন না। স্বাধীন তদন্ত ও বিশেষজ্ঞদের কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক—এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, বড় সরদার বাড়িসহ সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রকৃত কারুশিল্পীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ কারণেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল গঠনের মাধ্যমে বিষয়গুলো যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে।

এর আগে একই অভিযোগ ও দাবিগুলো নিয়ে গত ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংরক্ষণ কমিটি। পরে ৩১ আগস্ট সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বড় সরদার বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১২ দফা স্মারকলিপি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সোনারগাঁয়ের প্রায় পাঁচ শতাব্দী পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা বড় সরদার বাড়ির সংরক্ষণ পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সোনারগাঁয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের স্বাক্ষরে স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়। এতে ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ির কারিগরি পরীক্ষা থেকে শুরু করে ফাউন্ডেশনের আর্থিক কার্যক্রমের স্বাধীন নিরীক্ষা এবং প্রকৃত কারুশিল্পীদের অধিকার নিশ্চিত করাসহ মোট ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপির অনুলিপি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়িতে টানা চার দিন বাণিজ্যিক শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়। এ সময় উচ্চক্ষমতার জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা, ক্যামেরা ক্রেন, ট্রলি, সাউন্ড সিস্টেম এবং শক্তিশালী আলোকসজ্জার বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।

এই শুটিংয়ের কারণে স্থাপনাটির কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে কমিটি। তাদের প্রশ্ন, শুটিংয়ের আগে স্থাপনাটির ওপর কোনো হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছিল কি না, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না।

এ ছাড়া ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। কমিটির আশঙ্কা, জেনারেটরের কম্পন, ভারী সরঞ্জামের চলাচল এবং দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র আলোর তাপ পুরোনো স্থাপনাটির গাঁথুনি, চুনসুরকি, কাঠ, প্লাস্টার, মেঝে ও অলংকরণে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ জন্য প্রত্নতত্ত্ববিদ, সংরক্ষণ স্থপতি ও কাঠামো প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল গঠনের আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে শুটিংয়ের আগের সংরক্ষণ নথি ও স্থাপনার আলোকচিত্রের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা তুলনা করে কারিগরি মূল্যায়নের কথাও বলা হয়েছে।

শুধু বড় সরদার বাড়ির বিষয় নয়, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়েও স্মারকলিপিতে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির অভিযোগ, প্রকৃত কারুশিল্পীদের পরিবর্তে সুবিধাজনক স্থানে অকারুশিল্পীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ফাউন্ডেশনের সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন, বিভিন্ন নির্মাণ ও মেরামতকাজ, শ্রমিক বিল, স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, কারুশিল্পীদের কাঁচামাল কেনা এবং সরকারি অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখাসহ বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও স্বাধীন তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এসব অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য কার্যাদেশ, টেন্ডার ও কোটেশন, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক হিসাব, শ্রমিকদের হাজিরা, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড, দোকান বরাদ্দের তালিকা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি পরিবর্তন, সরিয়ে নেওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ঠেকাতে প্রশাসনিকভাবে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে কারুপল্লীর প্রকৃত কারুশিল্পীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির দাবি, অনেক প্রকৃত কারুশিল্পীর দোকান এমন জায়গায় রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীদের সহজে যাতায়াতের সুযোগ নেই। বিপরীতে, সুবিধাজনক স্থানে অকারুশিল্পীদের দোকান বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় প্রকৃত কারুশিল্পীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কারুশিল্পী হিসেবে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু এবং প্রধান প্রবেশপথ থেকে কারুপল্লী পর্যন্ত দর্শনার্থীদের দিকনির্দেশনা দিতে স্পষ্ট সাইনেজ স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

১২ দফা দাবির মধ্যে ঐতিহাসিক স্থাপনায় বাণিজ্যিক শুটিং বা বড় আয়োজনের আগে বাধ্যতামূলক হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট, ঐতিহাসিক স্থাপনার বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন, দোকান বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ এবং তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত তদন্ত কমিশন ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে সংরক্ষণ কমিটি।

কমিটির আহ্বায়ক শাহেদ কায়েস বলেন, তারা কোনো অভিযোগকেই তদন্তের আগেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন না। স্বাধীন তদন্ত ও বিশেষজ্ঞদের কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক—এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, বড় সরদার বাড়িসহ সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রকৃত কারুশিল্পীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ কারণেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল গঠনের মাধ্যমে বিষয়গুলো যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে।

এর আগে একই অভিযোগ ও দাবিগুলো নিয়ে গত ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সংরক্ষণ কমিটি। পরে ৩১ আগস্ট সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ