ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা। সংগঠনটি অবিলম্বে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন।
বিবৃতিতে তারিকুল ইসলাম সুজন দাবি করেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যকার প্রকৃত সড়ক দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার হলেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দূরত্ব দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পরিবহন খাতে আগের যে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ছিল, সেটি এখনো পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি। তাঁর ভাষায়, “শুধু ব্যক্তিবদল হয়েছে, ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
বিবৃতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। সুজনের দাবি, সে সময় আন্দোলনের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক এই রুটে ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেন। পরে বাস মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ টাকা বাড়ানো হলেও যাত্রীদের অসন্তোষের কারণে তা প্রত্যাহার করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৩ এপ্রিল সরকার কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫৫ টাকা ভাড়া আদায় শুরু করেন বাস মালিকরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ভাড়া সরকার নির্ধারিত হিসাবের তুলনায় ৩ টাকা বেশি ছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
সুজনের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর তেলের দাম বাড়ানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া আরও ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এ রুটে নতুন করে সর্বোচ্চ ৩ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়তে পারে। কিন্তু এর আগেই ৩ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দাবি করে তিনি নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে উৎসব ও বন্ধন পরিবহনে ৫ টাকা এবং এসি বাসে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী। তাঁর দাবি, জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসকও এই ভাড়া আদায়ের বিষয়টির দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না।
বাড়তি ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িত বাস মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তারিকুল ইসলাম সুজন বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক পয়সাও বেশি ভাড়া দেবে না।”

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা। সংগঠনটি অবিলম্বে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন।
বিবৃতিতে তারিকুল ইসলাম সুজন দাবি করেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যকার প্রকৃত সড়ক দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার হলেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দূরত্ব দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পরিবহন খাতে আগের যে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ছিল, সেটি এখনো পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি। তাঁর ভাষায়, “শুধু ব্যক্তিবদল হয়েছে, ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
বিবৃতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। সুজনের দাবি, সে সময় আন্দোলনের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক এই রুটে ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেন। পরে বাস মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ টাকা বাড়ানো হলেও যাত্রীদের অসন্তোষের কারণে তা প্রত্যাহার করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৩ এপ্রিল সরকার কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫৫ টাকা ভাড়া আদায় শুরু করেন বাস মালিকরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ভাড়া সরকার নির্ধারিত হিসাবের তুলনায় ৩ টাকা বেশি ছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
সুজনের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর তেলের দাম বাড়ানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া আরও ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, এ রুটে নতুন করে সর্বোচ্চ ৩ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়তে পারে। কিন্তু এর আগেই ৩ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দাবি করে তিনি নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে উৎসব ও বন্ধন পরিবহনে ৫ টাকা এবং এসি বাসে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী। তাঁর দাবি, জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসকও এই ভাড়া আদায়ের বিষয়টির দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না।
বাড়তি ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িত বাস মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তারিকুল ইসলাম সুজন বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক পয়সাও বেশি ভাড়া দেবে না।”

আপনার মতামত লিখুন