বি পি নিউজ ২৪

রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা দেখতে হাজারো ভক্তের ভিড়


প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা দেখতে হাজারো ভক্তের ভিড়

নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনে দেবীরূপে পূজিত ৬ বছরের শ্রেয়সী

শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীতে সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় আয়োজন কুমারী পূজা। এ বছর দেবীরূপে পূজিত হয়েছে ছয় বছর বয়সী শিশু শ্রেয়সী ভট্টাচার্য।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) নগরীর মিশনপাড়া এলাকায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই আশ্রম প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে শ্রেয়সী ভট্টাচার্যকে কুমারী আসনে দেবীরূপে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

শ্রেয়সীর বয়স ৬ বছর ৬ মাস ১৮ দিন। সে চাষাঢ়ার বেইলী টাওয়ারে অবস্থিত আনন্দ ভুবন স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা চিকিৎসক সুমন ভট্টাচার্য এবং মা অর্পিতা ভট্টাচার্য। তাঁদের বাসা নারায়ণগঞ্জ নগরীর গলাচিপা এলাকায়।

কুমারী পূজার ধর্মীয় তাৎপর্য

কুমারী পূজার গুরুত্ব তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সভাপতি তারাপদ আচার্য্য বলেন, দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ কুমারী পূজা। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ নয়জন কিশোরীকে দেবীরূপে পূজা করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন স্থানে কুমারী পূজার আয়োজন হয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারীর মধ্যে দেবী দুর্গার পবিত্র মাতৃরূপের প্রকাশ ঘটে। এ বিশ্বাস থেকেই কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রী রামকৃষ্ণের মাতৃভাবনায় নারীকে দেবীরূপে সম্মান করার যে শিক্ষা রয়েছে, এই পূজার মধ্য দিয়ে তারই প্রতিফলন ঘটে।

মিশন আশ্রমে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও মহাঅষ্টমীর পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তারাপদ আচার্য্য। এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করেন।

ভক্তদের প্রার্থনায় দেশ ও মানুষের মঙ্গল

কুমারী পূজা দেখতে আসা ভক্ত অর্পিতা রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কুমারী পূজা দেখার ইচ্ছা ছিল। এবার মিশনে এসে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে তাঁর ভালো লেগেছে। দেবীর কাছে সবার সুস্থতা, ভালো থাকা ও মঙ্গল কামনা করেছেন তিনি।

আরেক ভক্ত প্রিয়াঙ্কা সাহা দেশের অশান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি সবাই যেন আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেই প্রার্থনা করেন। পড়াশোনা শেষ করে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। পূজার আয়োজনে নৃত্য পরিবেশন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন বলে জানান প্রিয়াঙ্কা।

মহাঅষ্টমীর এই আয়োজন ঘিরে রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ঢাকঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে পুরো আশ্রম এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শ্রদ্ধা, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আবহে কুমারী পূজা উপভোগ করেন উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা দেখতে হাজারো ভক্তের ভিড়

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনে দেবীরূপে পূজিত ৬ বছরের শ্রেয়সী

শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীতে সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় আয়োজন কুমারী পূজা। এ বছর দেবীরূপে পূজিত হয়েছে ছয় বছর বয়সী শিশু শ্রেয়সী ভট্টাচার্য।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) নগরীর মিশনপাড়া এলাকায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই আশ্রম প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে শ্রেয়সী ভট্টাচার্যকে কুমারী আসনে দেবীরূপে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

শ্রেয়সীর বয়স ৬ বছর ৬ মাস ১৮ দিন। সে চাষাঢ়ার বেইলী টাওয়ারে অবস্থিত আনন্দ ভুবন স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা চিকিৎসক সুমন ভট্টাচার্য এবং মা অর্পিতা ভট্টাচার্য। তাঁদের বাসা নারায়ণগঞ্জ নগরীর গলাচিপা এলাকায়।

কুমারী পূজার ধর্মীয় তাৎপর্য

কুমারী পূজার গুরুত্ব তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সভাপতি তারাপদ আচার্য্য বলেন, দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ কুমারী পূজা। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ নয়জন কিশোরীকে দেবীরূপে পূজা করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন স্থানে কুমারী পূজার আয়োজন হয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারীর মধ্যে দেবী দুর্গার পবিত্র মাতৃরূপের প্রকাশ ঘটে। এ বিশ্বাস থেকেই কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রী রামকৃষ্ণের মাতৃভাবনায় নারীকে দেবীরূপে সম্মান করার যে শিক্ষা রয়েছে, এই পূজার মধ্য দিয়ে তারই প্রতিফলন ঘটে।

মিশন আশ্রমে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও মহাঅষ্টমীর পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তারাপদ আচার্য্য। এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করেন।

ভক্তদের প্রার্থনায় দেশ ও মানুষের মঙ্গল

কুমারী পূজা দেখতে আসা ভক্ত অর্পিতা রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কুমারী পূজা দেখার ইচ্ছা ছিল। এবার মিশনে এসে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে তাঁর ভালো লেগেছে। দেবীর কাছে সবার সুস্থতা, ভালো থাকা ও মঙ্গল কামনা করেছেন তিনি।

আরেক ভক্ত প্রিয়াঙ্কা সাহা দেশের অশান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি সবাই যেন আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেই প্রার্থনা করেন। পড়াশোনা শেষ করে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। পূজার আয়োজনে নৃত্য পরিবেশন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন বলে জানান প্রিয়াঙ্কা।

মহাঅষ্টমীর এই আয়োজন ঘিরে রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ঢাকঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে পুরো আশ্রম এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শ্রদ্ধা, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আবহে কুমারী পূজা উপভোগ করেন উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ