ময়লার ভাগাড়ের পাশে বসে দুপুরের খাবার খেলেন তনু, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রতিবাদ
নারায়ণগঞ্জ শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার দুরবস্থা তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ করেছেন ‘উই আর ভলেন্টিয়ার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু। বিদ্যালয়ের সামনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে তিনি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে সেই ভাগাড়ের পাশেই বসে দুপুরের খাবার খান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তনুর দাবি, শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করলেও তা নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যকর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
তনু বলেন, বিদ্যালয়টির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিবেশে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ও পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
বিদ্যালয়ের সামনের পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তনু। তাঁর ভাষ্য, কালিরবাজার, করিম মার্কেট ও লিংক রোডসহ নগরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকাতেও ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার চিত্র রয়েছে। এসব সড়ক ও এলাকায় প্রতিদিন বহু মানুষের চলাচল হলেও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা পড়ে থাকার কারণে নগরবাসীকে নিয়মিত দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ব্যস্ত সড়কের আশপাশে অপরিচ্ছন্নতা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ বলেও উল্লেখ করেন তনু।
সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাপ্তরিকভাবে তদারকি করলেই মানুষের বাস্তব দুর্ভোগ পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। মাঠপর্যায়ে গিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নগরের দৃশ্যমান সমস্যার সমাধান না হলে চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অন্যান্য সমস্যার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ময়লার ভাগাড়টির ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তনু।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানুষ একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরের যে প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবে দেখতে চায়। এ জন্য শুধু আশ্বাস বা দাপ্তরিক নির্দেশনা নয়, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, জনবহুল এলাকাগুলো পরিষ্কার রাখা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ময়লার ভাগাড়ের পাশে বসে খাবার খাওয়ার মাধ্যমে নগরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন তনু ও তাঁর সংগঠনের সদস্যরা। এখন ওই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নগরের অন্যান্য স্থানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার বিষয়।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ময়লার ভাগাড়ের পাশে বসে দুপুরের খাবার খেলেন তনু, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রতিবাদ
নারায়ণগঞ্জ শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার দুরবস্থা তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ করেছেন ‘উই আর ভলেন্টিয়ার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু। বিদ্যালয়ের সামনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে তিনি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে সেই ভাগাড়ের পাশেই বসে দুপুরের খাবার খান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তনুর দাবি, শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করলেও তা নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যকর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
তনু বলেন, বিদ্যালয়টির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিবেশে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া ও পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
বিদ্যালয়ের সামনের পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তনু। তাঁর ভাষ্য, কালিরবাজার, করিম মার্কেট ও লিংক রোডসহ নগরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকাতেও ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার চিত্র রয়েছে। এসব সড়ক ও এলাকায় প্রতিদিন বহু মানুষের চলাচল হলেও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা পড়ে থাকার কারণে নগরবাসীকে নিয়মিত দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও ব্যস্ত সড়কের আশপাশে অপরিচ্ছন্নতা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ বলেও উল্লেখ করেন তনু।
সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাপ্তরিকভাবে তদারকি করলেই মানুষের বাস্তব দুর্ভোগ পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। মাঠপর্যায়ে গিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নগরের দৃশ্যমান সমস্যার সমাধান না হলে চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অন্যান্য সমস্যার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ময়লার ভাগাড়টির ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তনু।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানুষ একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরের যে প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবে দেখতে চায়। এ জন্য শুধু আশ্বাস বা দাপ্তরিক নির্দেশনা নয়, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, জনবহুল এলাকাগুলো পরিষ্কার রাখা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ময়লার ভাগাড়ের পাশে বসে খাবার খাওয়ার মাধ্যমে নগরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন তনু ও তাঁর সংগঠনের সদস্যরা। এখন ওই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নগরের অন্যান্য স্থানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন