বিএনপি ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা, আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নীরব আইভী; শুরু নতুন আলোচনা
দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বিএনপি সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেত্রী নিজের দল কিংবা দলের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভীর বক্তব্য শুধুমাত্র সৌজন্যমূলক ধন্যবাদ জ্ঞাপন নয়, বরং এর মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও নানা ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মুক্তির পরপরই বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নীরবতা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আইভী বরাবরই নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যেও তিনি আলাদা একটি বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হন। দলীয় অনেক নেতার সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও জনপ্রিয়তায় তার তেমন প্রভাব পড়েনি।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, আইভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিএনপির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। তবে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অতীতে আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাকে ‘বিএনপি-জামায়াতঘেঁষা’ বলেও সমালোচনা করেছে। তবুও রাজনৈতিক মাঠে তার জনপ্রিয়তা অটুট ছিল এবং তিনি শামীম ওসমানের অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মানেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। আইভী এখন পর্যন্ত কোনো নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, জোট বা দলীয় অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি কিছু বলেননি। ফলে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।
এদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা রয়েছে, ভবিষ্যতে আইভী যদি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন বা প্রচলিত রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে কোনো ভূমিকা রাখেন, তাহলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে, কারামুক্তির পর দেওয়া সংক্ষিপ্ত একটি বক্তব্যই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এখন তার পরবর্তী বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকেই নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য, ১২টি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বুধবার রাতে নিজ বাসভবনে ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ সময় তিনি বলেন, “আমি চাই সকলকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো আরও অনেক মা আছেন, যারা নিরপরাধ। আশা করি সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবে।” পাশাপাশি তিনি বিএনপি সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
বিএনপি ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা, আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নীরব আইভী; শুরু নতুন আলোচনা
দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বিএনপি সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেত্রী নিজের দল কিংবা দলের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভীর বক্তব্য শুধুমাত্র সৌজন্যমূলক ধন্যবাদ জ্ঞাপন নয়, বরং এর মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও নানা ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মুক্তির পরপরই বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নীরবতা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আইভী বরাবরই নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মধ্যেও তিনি আলাদা একটি বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হন। দলীয় অনেক নেতার সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও জনপ্রিয়তায় তার তেমন প্রভাব পড়েনি।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, আইভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিএনপির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত আছে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। তবে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অতীতে আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাকে ‘বিএনপি-জামায়াতঘেঁষা’ বলেও সমালোচনা করেছে। তবুও রাজনৈতিক মাঠে তার জনপ্রিয়তা অটুট ছিল এবং তিনি শামীম ওসমানের অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মানেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। আইভী এখন পর্যন্ত কোনো নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, জোট বা দলীয় অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি কিছু বলেননি। ফলে তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।
এদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা রয়েছে, ভবিষ্যতে আইভী যদি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন বা প্রচলিত রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে কোনো ভূমিকা রাখেন, তাহলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে, কারামুক্তির পর দেওয়া সংক্ষিপ্ত একটি বক্তব্যই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এখন তার পরবর্তী বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকেই নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য, ১২টি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বুধবার রাতে নিজ বাসভবনে ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ সময় তিনি বলেন, “আমি চাই সকলকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো আরও অনেক মা আছেন, যারা নিরপরাধ। আশা করি সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবে।” পাশাপাশি তিনি বিএনপি সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন