২০২৪ সালের জুলাইয়ের সেই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা যখন নিজেদের বুক চিতিয়ে দাঁড়াল বুলেট এবং অন্যায়ের সামনে, তখন ঘরের চার দেওয়ালে নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদী মুখ মেহরাব হোসেন প্রভাত। অধিকার আদায়ের সেই অগ্নিঝরা দিনে তিনি নেমে পড়েছিলেন রাজপথে। যার শুরুটা হয়েছিল কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি দিয়ে, কিন্তু তার পরিণতি রূপ নিয়েছিল একটি পুরো ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে।
মেহরাব হোসেন প্রভাতের রাজপথের লড়াইয়ের ইতিহাস আজকের নয়। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাংরোডে তাঁর সরব উপস্থিতি জানান দিয়েছিল এই তরুণ অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার পাত্র তিনি নয়। ২০২০ সালে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে 'টিম এনগঞ্জ সাইক্লিস্ট'-এর ব্যানারে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সাইকেলের সামনে প্লেকার্ড ঝুলিয়ে নারায়ণগঞ্জে এক ব্যতিক্রমী সাইকেল র্যালি বের করেছিলেন তিনি।
এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রভাত জানান, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার পরই তিনি রাজপথে নামার দৃঢ় ঘোষণা দেন। সবকিছু গুছিয়ে ১৭ জুলাই সমমনস্ক বন্ধুদের নিয়ে চাষাড়ায় অবস্থান নেন এবং ১৮ জুলাই পিডিবি স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে চিটাগাংরোডের দিকে মার্চ করেন। সেই ১৮ জুলাই রাতেই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় প্রথম তালিকাভুক্ত করা হয়। ১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চিটাগাংরোডে এক ভয়ংকর গণহত্যার পরিস্থিতির শিকার হন তিনি। ইন্টারনেট শাটডাউনের মধ্যে যখন রাত নামলেই ছাত্র ও রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তারের মহোৎসব চলছিল, তখন ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিনি একেক দিন একেক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আন্দোলন টিকিয়ে রাখেন।
ইন্টারনেট বন্ধ করে যখন সারাদেশে গণহত্যা চালানো হচ্ছিল এবং সেই লোমহর্ষক ভিডিওগুলো ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে, তখন ডান হাতে গুলি লাগার ক্ষত ও ব্যান্ডেজ নিয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি। সেই রক্তক্ষয়ী ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থাতেই গত ২ জুলাই ফেসবুকে তিনি এক স্ট্যাটাস দেন—
"ঘরে বসে এরেস্ট হওয়ার চেয়ে রাজপথে নেমে এরেস্ট হওয়া অতি সম্মানের।"
এই দৃপ্ত শপথ নিয়েই ৩ জুলাই তিনি ঢাকা শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেদিন শহীদ মিনারে কর্মসূচি দুপুর ৩টায় নির্ধারিত থাকলেও দুপুর ১টার দিকেই তিনি লক্ষ্য করেন যে, সরকারদলীয়রা জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে শহীদ মিনারের ভেতরে অবস্থান নিয়েছে। বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে তিনি তাদের ঠিক বিপরীত দিক থেকেই জোরালো স্লোগান শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের সাধারণ ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে স্লোগান ধরে । তাঁর সেই সাহসী উদ্যোগ মুহূর্তেই প্রায় লাখো জনতার এক বিশাল মহাসমুদ্রে পরিণত হয়। এরপর ৪ আগস্ট চিটাগাংরোড এবং ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে এসে সফলতা অর্জন করেন তিনি।
শুধু রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েই শেষ হয়নি প্রভাতের দায়িত্ব। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেন দেশ ও সমাজের সংস্কারকাজে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সংস্কার এবং লুটপাটকৃত মালামাল উদ্ধারে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। সেসময় থানায় কিছুদিন কোনো পুলিশ না থাকায় সাধারণ মানুষ নানা সমস্যায় পড়ে তাঁর দারস্থ হতেন; প্রভাত তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং সাধ্যমতো তাঁদের সহায়তা করেছেন। এছাড়া ২৪-এর ভয়াবহ বন্যায় কয়েকশত মানুষের জন্য নোয়াখালীতে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাওয়া, জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া এবং জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংকটে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলায় কমিটি গোছানোর গুরুদায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ ছয় মাস ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিগুলোর কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে তিনি “আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ” নামক একটি ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন। যেখানে তিনি সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে জানতে চেয়েছিলেন—তারা কেমন দেশ দেখতে চান এবং নতুন সরকারের কাছে জনগণের আসল চাওয়া কী।
তবে পরবর্তীতে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয়ভাবে স্থগিত করা হয়, তখন তিনি আর কোনো নব্য রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হননি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রভাত জানান, তাঁর অটল রাজনৈতিক দর্শনের কথা। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক দলের সাথে নিজেকে যুক্ত না করার সবচেয়ে বড় এবং মূল কারণ ছিল নিরপেক্ষতা। প্রভাত মনে করেন সে যদি কোনো দলের সাথে যুক্ত হয়, তাহলে ঐ দলের বাহিরে কিছু বলতে বা করতে পারবেন না এবং তিনি তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলবেন। তাই নির্দলীয় থেকে নিরপেক্ষভাবে দেশের জন্য কাজ করতে এবং যেকোনো দলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে প্রভাত নিজের পরিচয়কে সবসময় অরাজনৈতিক রাখার চেষ্টা করে চলেছে ।
যাঁরা কোনো দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে চান না, অথচ দেশের জন্য কিছু করতে চায় এমন সব তরুণ স্বপ্নবাজদের এক সুতোয় বাঁধতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অরাজনৈতিক সংগঠন ‘নিউ জেনারেশন্স বাংলাদেশ – এনজিবি’। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকের মৌলিক অধিকার আদায়ের শক্তিশালী বাহক হিসেবে কাজ করা। ইতিমধ্যেই এনজিবি একটি যুগান্তকারী সফলতার দেখা পেয়েছে; নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক এমআরটি-২ (মেট্রোরেল) প্রকল্পের সাথে যুক্ত করার জন্য সর্বপ্রথম জোরালো প্রস্তাব রাখে এই সংগঠনটি এবং তাতে সফলও হয়। প্রভাত সহ তরুণ স্বপ্নবাজদের হাত ধরে গড়ে ওঠা 'এনজিবি' নামের এই তারুণ্যের প্রতীকী সংগঠনটি ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে একইভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাইয়ের সেই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা যখন নিজেদের বুক চিতিয়ে দাঁড়াল বুলেট এবং অন্যায়ের সামনে, তখন ঘরের চার দেওয়ালে নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদী মুখ মেহরাব হোসেন প্রভাত। অধিকার আদায়ের সেই অগ্নিঝরা দিনে তিনি নেমে পড়েছিলেন রাজপথে। যার শুরুটা হয়েছিল কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি দিয়ে, কিন্তু তার পরিণতি রূপ নিয়েছিল একটি পুরো ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে।
মেহরাব হোসেন প্রভাতের রাজপথের লড়াইয়ের ইতিহাস আজকের নয়। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাংরোডে তাঁর সরব উপস্থিতি জানান দিয়েছিল এই তরুণ অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার পাত্র তিনি নয়। ২০২০ সালে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে 'টিম এনগঞ্জ সাইক্লিস্ট'-এর ব্যানারে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সাইকেলের সামনে প্লেকার্ড ঝুলিয়ে নারায়ণগঞ্জে এক ব্যতিক্রমী সাইকেল র্যালি বের করেছিলেন তিনি।
এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রভাত জানান, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার পরই তিনি রাজপথে নামার দৃঢ় ঘোষণা দেন। সবকিছু গুছিয়ে ১৭ জুলাই সমমনস্ক বন্ধুদের নিয়ে চাষাড়ায় অবস্থান নেন এবং ১৮ জুলাই পিডিবি স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে চিটাগাংরোডের দিকে মার্চ করেন। সেই ১৮ জুলাই রাতেই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় প্রথম তালিকাভুক্ত করা হয়। ১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চিটাগাংরোডে এক ভয়ংকর গণহত্যার পরিস্থিতির শিকার হন তিনি। ইন্টারনেট শাটডাউনের মধ্যে যখন রাত নামলেই ছাত্র ও রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তারের মহোৎসব চলছিল, তখন ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিনি একেক দিন একেক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আন্দোলন টিকিয়ে রাখেন।
ইন্টারনেট বন্ধ করে যখন সারাদেশে গণহত্যা চালানো হচ্ছিল এবং সেই লোমহর্ষক ভিডিওগুলো ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে, তখন ডান হাতে গুলি লাগার ক্ষত ও ব্যান্ডেজ নিয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি। সেই রক্তক্ষয়ী ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থাতেই গত ২ জুলাই ফেসবুকে তিনি এক স্ট্যাটাস দেন—
"ঘরে বসে এরেস্ট হওয়ার চেয়ে রাজপথে নেমে এরেস্ট হওয়া অতি সম্মানের।"
এই দৃপ্ত শপথ নিয়েই ৩ জুলাই তিনি ঢাকা শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেদিন শহীদ মিনারে কর্মসূচি দুপুর ৩টায় নির্ধারিত থাকলেও দুপুর ১টার দিকেই তিনি লক্ষ্য করেন যে, সরকারদলীয়রা জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে শহীদ মিনারের ভেতরে অবস্থান নিয়েছে। বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে তিনি তাদের ঠিক বিপরীত দিক থেকেই জোরালো স্লোগান শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের সাধারণ ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে স্লোগান ধরে । তাঁর সেই সাহসী উদ্যোগ মুহূর্তেই প্রায় লাখো জনতার এক বিশাল মহাসমুদ্রে পরিণত হয়। এরপর ৪ আগস্ট চিটাগাংরোড এবং ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে এসে সফলতা অর্জন করেন তিনি।
শুধু রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েই শেষ হয়নি প্রভাতের দায়িত্ব। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেন দেশ ও সমাজের সংস্কারকাজে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সংস্কার এবং লুটপাটকৃত মালামাল উদ্ধারে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। সেসময় থানায় কিছুদিন কোনো পুলিশ না থাকায় সাধারণ মানুষ নানা সমস্যায় পড়ে তাঁর দারস্থ হতেন; প্রভাত তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছেন এবং সাধ্যমতো তাঁদের সহায়তা করেছেন। এছাড়া ২৪-এর ভয়াবহ বন্যায় কয়েকশত মানুষের জন্য নোয়াখালীতে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাওয়া, জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া এবং জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংকটে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলায় কমিটি গোছানোর গুরুদায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ ছয় মাস ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিগুলোর কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে তিনি “আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ” নামক একটি ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন। যেখানে তিনি সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে জানতে চেয়েছিলেন—তারা কেমন দেশ দেখতে চান এবং নতুন সরকারের কাছে জনগণের আসল চাওয়া কী।
তবে পরবর্তীতে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয়ভাবে স্থগিত করা হয়, তখন তিনি আর কোনো নব্য রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হননি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রভাত জানান, তাঁর অটল রাজনৈতিক দর্শনের কথা। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক দলের সাথে নিজেকে যুক্ত না করার সবচেয়ে বড় এবং মূল কারণ ছিল নিরপেক্ষতা। প্রভাত মনে করেন সে যদি কোনো দলের সাথে যুক্ত হয়, তাহলে ঐ দলের বাহিরে কিছু বলতে বা করতে পারবেন না এবং তিনি তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলবেন। তাই নির্দলীয় থেকে নিরপেক্ষভাবে দেশের জন্য কাজ করতে এবং যেকোনো দলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে প্রভাত নিজের পরিচয়কে সবসময় অরাজনৈতিক রাখার চেষ্টা করে চলেছে ।
যাঁরা কোনো দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে চান না, অথচ দেশের জন্য কিছু করতে চায় এমন সব তরুণ স্বপ্নবাজদের এক সুতোয় বাঁধতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অরাজনৈতিক সংগঠন ‘নিউ জেনারেশন্স বাংলাদেশ – এনজিবি’। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকের মৌলিক অধিকার আদায়ের শক্তিশালী বাহক হিসেবে কাজ করা। ইতিমধ্যেই এনজিবি একটি যুগান্তকারী সফলতার দেখা পেয়েছে; নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক এমআরটি-২ (মেট্রোরেল) প্রকল্পের সাথে যুক্ত করার জন্য সর্বপ্রথম জোরালো প্রস্তাব রাখে এই সংগঠনটি এবং তাতে সফলও হয়। প্রভাত সহ তরুণ স্বপ্নবাজদের হাত ধরে গড়ে ওঠা 'এনজিবি' নামের এই তারুণ্যের প্রতীকী সংগঠনটি ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে একইভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন