সিদ্ধিরগঞ্জের এসিল্যান্ড দেবযানী করের বদলি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ: ডিসি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী করের খুলনায় বদলি অফিসে অনুপস্থিতির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, দেবযানী করের বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই হয়েছে।
অন্যদিকে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমার বদলির ক্ষেত্রে অফিসে অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ডিসি মো. রায়হান কবির বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার দেবযানী করকে নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। তবে ফতুল্লার সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমার ক্ষেত্রে অফিসে অনুপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে দেবযানী কর জানিয়েছেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের দিন তিনি অসুস্থতাজনিত ছুটিতে ছিলেন। গত ২৬ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি অনুমোদিত ছুটিতে ছিলেন এবং বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানতেন বলে দাবি করেন তিনি।
দেবযানী কর বলেন, ‘আমার বদলির প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। আমার ছুটির বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতনরা অবগত ছিলেন। ফলে আমাকে অনুপস্থিত থাকার কারণে কোনো শোকজও করা হয়নি।’
গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান।
ওই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয়ও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে সেখানে পৌঁছান। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অফিসে উপস্থিত হননি।
এ সময় হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করে আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টিও তার নজরে আসে। প্রায় ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। পরে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমাও কার্যালয়ে আসেন।
আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
পরবর্তীতে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার সাদিয়া আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া।
জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেবযানী করের বদলি ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ দুটি পৃথক প্রেক্ষাপটে হয়েছে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিদ্ধিরগঞ্জের এসিল্যান্ড দেবযানী করের বদলি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ: ডিসি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী করের খুলনায় বদলি অফিসে অনুপস্থিতির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, দেবযানী করের বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই হয়েছে।
অন্যদিকে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমার বদলির ক্ষেত্রে অফিসে অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ডিসি মো. রায়হান কবির বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার দেবযানী করকে নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। তবে ফতুল্লার সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমার ক্ষেত্রে অফিসে অনুপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে দেবযানী কর জানিয়েছেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের দিন তিনি অসুস্থতাজনিত ছুটিতে ছিলেন। গত ২৬ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি অনুমোদিত ছুটিতে ছিলেন এবং বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানতেন বলে দাবি করেন তিনি।
দেবযানী কর বলেন, ‘আমার বদলির প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। আমার ছুটির বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতনরা অবগত ছিলেন। ফলে আমাকে অনুপস্থিত থাকার কারণে কোনো শোকজও করা হয়নি।’
গত ৩১ আগস্ট সকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান।
ওই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয়ও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে সেখানে পৌঁছান। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অফিসে উপস্থিত হননি।
এ সময় হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করে আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টিও তার নজরে আসে। প্রায় ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। পরে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমাও কার্যালয়ে আসেন।
আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
পরবর্তীতে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার সাদিয়া আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া।
জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেবযানী করের বদলি ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ দুটি পৃথক প্রেক্ষাপটে হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন