নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ একসময় জেলার অন্যতম সম্ভাবনাময় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে অনেকেই তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযুক্ত বলে মনে করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন থেকে রাজনীতিতে উঠে আসা সুলতান মাহমুদ জেলা পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সময়, বিশেষ করে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত ছিল। সে সময় আবু মাসুম ও মাসুদুর রহমানের সঙ্গে তার নামও আন্দোলনের সামনের সারিতে উচ্চারিত হতো।
তবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সর্বশেষ রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নে এনসিপির আয়োজিত একটি ফল উৎসবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে।
এনসিপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আগের রাতেই একাধিকবার হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। পরে কর্মসূচি চলাকালে মঞ্চ, চেয়ার ও প্যান্ডেল ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনার জন্য আয়োজকরা সুলতান মাহমুদ ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পুলিশ মামলা দায়ের করে। মামলায় সুলতান মাহমুদসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, এ ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মীকেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলে থাকাকালে মামলা অনেক সময় রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একই বিষয় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির সমালোচনামূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে এক এনসিপি কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার ঘটনায়ও সুলতান মাহমুদ সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয়ভাবে তার কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে সুলতান মাহমুদের একটি শক্ত রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কগুলো তার সেই অর্জনকে আড়াল করে দিচ্ছে। তাদের অভিমত, আরও সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারতেন।
বর্তমানে রূপগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুলতান মাহমুদকে ঘিরে আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি তার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকেও নজর রাখছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা।

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ একসময় জেলার অন্যতম সম্ভাবনাময় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে অনেকেই তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের উপযুক্ত বলে মনে করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন থেকে রাজনীতিতে উঠে আসা সুলতান মাহমুদ জেলা পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সময়, বিশেষ করে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত ছিল। সে সময় আবু মাসুম ও মাসুদুর রহমানের সঙ্গে তার নামও আন্দোলনের সামনের সারিতে উচ্চারিত হতো।
তবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সর্বশেষ রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নে এনসিপির আয়োজিত একটি ফল উৎসবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে।
এনসিপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আগের রাতেই একাধিকবার হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। পরে কর্মসূচি চলাকালে মঞ্চ, চেয়ার ও প্যান্ডেল ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন কর্মীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনার জন্য আয়োজকরা সুলতান মাহমুদ ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পুলিশ মামলা দায়ের করে। মামলায় সুলতান মাহমুদসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, এ ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মীকেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলে থাকাকালে মামলা অনেক সময় রাজনৈতিক নিপীড়নের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একই বিষয় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির সমালোচনামূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে এক এনসিপি কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার ঘটনায়ও সুলতান মাহমুদ সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয়ভাবে তার কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে সুলতান মাহমুদের একটি শক্ত রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কগুলো তার সেই অর্জনকে আড়াল করে দিচ্ছে। তাদের অভিমত, আরও সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করলে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারতেন।
বর্তমানে রূপগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুলতান মাহমুদকে ঘিরে আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি তার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকেও নজর রাখছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন