বি পি নিউজ ২৪

দাহ নাকি দাফন, শুভর শেষকৃত্য নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ পরিবার


প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দাহ নাকি দাফন, শুভর শেষকৃত্য নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) মরদেহ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাকি মুসলিম—এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় হত্যার পাঁচ দিন পরও তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়নি। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

বর্তমানে শুভর মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় থাকা একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে শুভর মা দাবি করছেন, তিনি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলে মরদেহ দাহ করা হবে নাকি দাফন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুভর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই মরদেহের শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে। পাঁচ দিন ধরে মরদেহটি থানায় থাকা লাশবাহী ফ্রিজ অ্যাম্বুলেন্সে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়কে শুভ চন্দ্র দাসকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং মরদেহের পাশ থেকে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়েছিল। সেখানে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে এবং পরে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রটির গায়ে ‘MADE IN USA 7.65 MM’ লেখা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্র ও ম্যাগাজিনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুভর বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা ছিল। এর আগে মাদকবিরোধী অভিযানেও তাকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, আমলাপাড়ায় এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডিবির অভিযানে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় শুভ তথ্য দিয়েছিল—এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছিল মাদক কারবারিদের মধ্যে। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি এখন শুভর ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দাহ নাকি দাফন, শুভর শেষকৃত্য নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) মরদেহ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাকি মুসলিম—এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় হত্যার পাঁচ দিন পরও তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়নি। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

বর্তমানে শুভর মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় থাকা একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে শুভর মা দাবি করছেন, তিনি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলে মরদেহ দাহ করা হবে নাকি দাফন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুভর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই মরদেহের শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে। পাঁচ দিন ধরে মরদেহটি থানায় থাকা লাশবাহী ফ্রিজ অ্যাম্বুলেন্সে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়কে শুভ চন্দ্র দাসকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং মরদেহের পাশ থেকে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়েছিল। সেখানে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে এবং পরে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রটির গায়ে ‘MADE IN USA 7.65 MM’ লেখা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্র ও ম্যাগাজিনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুভর বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা ছিল। এর আগে মাদকবিরোধী অভিযানেও তাকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, আমলাপাড়ায় এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডিবির অভিযানে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় শুভ তথ্য দিয়েছিল—এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছিল মাদক কারবারিদের মধ্যে। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি এখন শুভর ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ