বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘোষিত প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ও সন্তোষজনক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে সংগঠনটির মতে, বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর সহজ ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
সম্প্রতি বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাজেট প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার জন্য সরকার, অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ধন্যবাদ জানান তিনি।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পক্ষ থেকে এবারের বাজেটে করব্যবস্থার সংস্কার এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমদানি সহজ করার দাবি ছিল। তার মতে, এ দুটি ক্ষেত্রেই সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মাউন্টিং স্ট্রাকচার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে কর সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ জ্বালানি সংকট নিরসনে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখা, বিভিন্ন প্রণোদনার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং নন-বন্ডেড রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। এছাড়া সংকটে থাকা ও বন্ধ শিল্পকারখানার জন্য সহায়তা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন পুনরুদ্ধার সহজ হবে।
তবে প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত বিপুল রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে করদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। অন্যথায় বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিল্পখাতের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয় বা ফেরতের জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি। তার ভাষ্য, সময়মতো অর্থ ফেরত না পেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধন আটকে যায় এবং তারল্য সংকট তৈরি হয়।
পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানিতে ৫ শতাংশ কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, দেশের একমাত্র উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম সরবরাহ করতে পারে। তাই দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে যেন রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।
এ ছাড়া উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণ নতুন বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন। নতুন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সহজ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে প্রস্তাবিত বাজেট শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘোষিত প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ও সন্তোষজনক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে সংগঠনটির মতে, বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর সহজ ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
সম্প্রতি বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাজেট প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার জন্য সরকার, অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ধন্যবাদ জানান তিনি।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পক্ষ থেকে এবারের বাজেটে করব্যবস্থার সংস্কার এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমদানি সহজ করার দাবি ছিল। তার মতে, এ দুটি ক্ষেত্রেই সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মাউন্টিং স্ট্রাকচার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে কর সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ জ্বালানি সংকট নিরসনে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখা, বিভিন্ন প্রণোদনার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং নন-বন্ডেড রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। এছাড়া সংকটে থাকা ও বন্ধ শিল্পকারখানার জন্য সহায়তা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন পুনরুদ্ধার সহজ হবে।
তবে প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত বিপুল রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে করদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। অন্যথায় বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিল্পখাতের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয় বা ফেরতের জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি। তার ভাষ্য, সময়মতো অর্থ ফেরত না পেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধন আটকে যায় এবং তারল্য সংকট তৈরি হয়।
পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানিতে ৫ শতাংশ কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, দেশের একমাত্র উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম সরবরাহ করতে পারে। তাই দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে যেন রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।
এ ছাড়া উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণ নতুন বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন। নতুন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সহজ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে প্রস্তাবিত বাজেট শিল্প খাতের পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন