ক্ষমতা যার কাছে, শামসুজ্জোহাও তার কাছে-- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শামসুজ্জোহার ক্ষেত্রে এটিই এখন ধ্রুব সত্য। বিগত ১৬ বছর শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের ছায়া হয়ে থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা এই বিতর্কিত ব্যক্তি এখন খোলস বদলে বড় ‘বিএনপি নেতা’ সেজেছেন। তাঁর এই নজিরবিহীন ‘রাজনৈতিক ডিগবাজি’ এবং অতীতের জঘন্য অপকর্মের ফিরিস্তি নিয়ে এলাকায় তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে শামসুজ্জোহা ছিলেন ওসমান পরিবারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং প্রভাবশালী সহযোগী। এই দাপট কাজে লাগিয়ে তিনি টিসিবি পণ্য চুরি, সরকারি জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এমনকি টিসিবি পণ্য চুরিতে বাধা দেওয়ায় নারী কাউন্সিলর সানিয়া সাউদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও শ্লীলতাহানির মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েও ওসমানদের ছত্রছায়ায় তিনি পার পেয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, শামসুজ্জোহা ২৬নং ওয়ার্ডে ডাকাত স্বপন, আজিজুল ও খোকন ওরফে চোক্কাকে দিয়ে এক বিশাল অপরাধ সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আলমগীরকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগ সভাপতি মতির তদবিরে এবং ‘কানা মনির’ মাধ্যমে মোটা অংকের লেনদেনে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন শামসুজ্জোহা। এলাকায় চুরি-ডাকাতি কিংবা তুলার গোডাউনে অগ্নিকাÐের মতো ঘটনায় তিনি একদিকে মালিকপক্ষকে ভয় দেখাতেন, অন্যদিকে ডাকাতদের সহায়তায় উদ্ধার করা মালামাল অর্থের বিনিময়ে ফেরত দেওয়ার ‘মধ্যস্থতা’ বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র হত্যার মামলার আসামি হয়ে শামসুজ্জোহা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন। কিন্তু স¤প্রতি পরিস্থিতি বুঝে তিনি আবারও বীরদর্পে প্রকাশ্যে আসেন। প্রথমে তিনি ‘মডেল মাসুদ’ বলয়ে ভিড়লেও, বিএনপির চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পক্ষে যাওয়ার সাথে সাথেই ডিগবাজি দিয়ে তাঁর শিবিরে যোগ দেন। তবে স¤প্রতি তাঁর অপকর্ম বুঝতে পেরে এমপি আবুল কালাম দরজা বন্ধ করে দিলে শামসুজ্জোহা এখন নবনিযুক্ত সিটি প্রশাসক সাখাওয়াতের দরবারে আনাগোনা শুরু করেছেন।
তৃণম‚ল নেতাদের অভিযোগ শামসুজ্জোহা প্রকাশ্যে ধানের শীষের জন্য ¯েøাগান দিলেও অন্তরালে সাত্তার, হালিম, মনির ও তার নিয়োগকৃত সিটি কর্পোরেশনের কর্মী কাদির-সোহেলকে দিয়ে প্রতিদ্ব›দ্বী ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থীর হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করিয়েছেন। মূলত তিনি বিএনপির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি এবং নিজের অপরাধ আড়াল করতেই ‘হাইব্রিড’ হিসেবে দলে ঢুকে পড়েছেন।
কেবল শামসুজ্জোহাই নন, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলমও দীর্ঘ দিন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর তিনিও এখন হঠাৎ ‘বিএনপি নেতা’ বনে গেছেন। দুই ভাইয়ের এমন সুবিধাবাদী আচরণে সচেতন মহল মনে করছেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই হাইব্রিডরা মূলত ক্ষমতার মধু লুটতে এবং নিজেদের জঘন্য পাপ ঢাকতে চাইছে।
সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী কর্মীদের দাবি শামসুজ্জোহার মতো একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, নারী নির্যাতনকারী, ডাকাতদের গডফাদার এবং হত্যা মামলার আসামিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
ক্ষমতা যার কাছে, শামসুজ্জোহাও তার কাছে-- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শামসুজ্জোহার ক্ষেত্রে এটিই এখন ধ্রুব সত্য। বিগত ১৬ বছর শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের ছায়া হয়ে থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা এই বিতর্কিত ব্যক্তি এখন খোলস বদলে বড় ‘বিএনপি নেতা’ সেজেছেন। তাঁর এই নজিরবিহীন ‘রাজনৈতিক ডিগবাজি’ এবং অতীতের জঘন্য অপকর্মের ফিরিস্তি নিয়ে এলাকায় তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে শামসুজ্জোহা ছিলেন ওসমান পরিবারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং প্রভাবশালী সহযোগী। এই দাপট কাজে লাগিয়ে তিনি টিসিবি পণ্য চুরি, সরকারি জমি দখল এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এমনকি টিসিবি পণ্য চুরিতে বাধা দেওয়ায় নারী কাউন্সিলর সানিয়া সাউদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও শ্লীলতাহানির মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েও ওসমানদের ছত্রছায়ায় তিনি পার পেয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, শামসুজ্জোহা ২৬নং ওয়ার্ডে ডাকাত স্বপন, আজিজুল ও খোকন ওরফে চোক্কাকে দিয়ে এক বিশাল অপরাধ সা¤্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আলমগীরকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগ সভাপতি মতির তদবিরে এবং ‘কানা মনির’ মাধ্যমে মোটা অংকের লেনদেনে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন শামসুজ্জোহা। এলাকায় চুরি-ডাকাতি কিংবা তুলার গোডাউনে অগ্নিকাÐের মতো ঘটনায় তিনি একদিকে মালিকপক্ষকে ভয় দেখাতেন, অন্যদিকে ডাকাতদের সহায়তায় উদ্ধার করা মালামাল অর্থের বিনিময়ে ফেরত দেওয়ার ‘মধ্যস্থতা’ বাণিজ্যে লিপ্ত ছিলেন।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র হত্যার মামলার আসামি হয়ে শামসুজ্জোহা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন। কিন্তু স¤প্রতি পরিস্থিতি বুঝে তিনি আবারও বীরদর্পে প্রকাশ্যে আসেন। প্রথমে তিনি ‘মডেল মাসুদ’ বলয়ে ভিড়লেও, বিএনপির চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পক্ষে যাওয়ার সাথে সাথেই ডিগবাজি দিয়ে তাঁর শিবিরে যোগ দেন। তবে স¤প্রতি তাঁর অপকর্ম বুঝতে পেরে এমপি আবুল কালাম দরজা বন্ধ করে দিলে শামসুজ্জোহা এখন নবনিযুক্ত সিটি প্রশাসক সাখাওয়াতের দরবারে আনাগোনা শুরু করেছেন।
তৃণম‚ল নেতাদের অভিযোগ শামসুজ্জোহা প্রকাশ্যে ধানের শীষের জন্য ¯েøাগান দিলেও অন্তরালে সাত্তার, হালিম, মনির ও তার নিয়োগকৃত সিটি কর্পোরেশনের কর্মী কাদির-সোহেলকে দিয়ে প্রতিদ্ব›দ্বী ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থীর হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করিয়েছেন। মূলত তিনি বিএনপির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি এবং নিজের অপরাধ আড়াল করতেই ‘হাইব্রিড’ হিসেবে দলে ঢুকে পড়েছেন।
কেবল শামসুজ্জোহাই নন, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর আলমও দীর্ঘ দিন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর তিনিও এখন হঠাৎ ‘বিএনপি নেতা’ বনে গেছেন। দুই ভাইয়ের এমন সুবিধাবাদী আচরণে সচেতন মহল মনে করছেন, শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই হাইব্রিডরা মূলত ক্ষমতার মধু লুটতে এবং নিজেদের জঘন্য পাপ ঢাকতে চাইছে।
সাধারণ মানুষ ও ত্যাগী কর্মীদের দাবি শামসুজ্জোহার মতো একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, নারী নির্যাতনকারী, ডাকাতদের গডফাদার এবং হত্যা মামলার আসামিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

আপনার মতামত লিখুন