বি পি নিউজ ২৪

জামিন মিললেও কা'রাগারেই হবে আইভীর ঈদ


প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জামিন মিললেও কা'রাগারেই হবে আইভীর ঈদ

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের আলোচিত ও প্রভাবশালী মুখ ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। টানা কয়েকবারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে নগর রাজনীতিতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন শক্ত অবস্থান। তবে একাধিক মামলায় কারাবন্দি থাকা সাবেক এই মেয়রের এবারও ঈদ কাটছে কারাগারের ভেতরে।

বর্তমানে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন আইভী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সম্প্রতি ১২টি মামলায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তার জামিন বহাল রাখলেও এখনই মুক্তি মিলছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটি’ থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের আগে রাতভর বাড়ির সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকরা বাড়ির সামনে জড়ো হন এবং আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন। পরে দীর্ঘ আলোচনা ও টানটান পরিস্থিতির পর ভোরে তিনি পুলিশের গাড়িতে ওঠেন।

প্রায় এক বছর ধরে বন্দি জীবন কাটানো আইভীর সম্ভাব্য মুক্তির খবর ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভী শুধু আওয়ামী লীগের একজন নেতা নন, বরং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণেও নগরবাসীর একটি বড় অংশের সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকাকালেও ২০০৩ সালে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন। পরে সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে আইভীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এখনো দৃশ্যমান। নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে রেখেছে। ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

আইভীর সম্ভাব্য মুক্তির খবরে তার সমর্থকদের মধ্যেও নতুন করে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, তিনি মাঠে ফিরলে রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরেও শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। যদিও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তবে নগরবাসীর একাংশের অভিযোগ—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে আগের মতো জবাবদিহিতা নেই। জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা নাগরিক সমস্যা নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা না করলেও নাসিককে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


জামিন মিললেও কা'রাগারেই হবে আইভীর ঈদ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের আলোচিত ও প্রভাবশালী মুখ ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। টানা কয়েকবারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে নগর রাজনীতিতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন শক্ত অবস্থান। তবে একাধিক মামলায় কারাবন্দি থাকা সাবেক এই মেয়রের এবারও ঈদ কাটছে কারাগারের ভেতরে।

বর্তমানে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন আইভী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সম্প্রতি ১২টি মামলায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তার জামিন বহাল রাখলেও এখনই মুক্তি মিলছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটি’ থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের আগে রাতভর বাড়ির সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকরা বাড়ির সামনে জড়ো হন এবং আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন। পরে দীর্ঘ আলোচনা ও টানটান পরিস্থিতির পর ভোরে তিনি পুলিশের গাড়িতে ওঠেন।

প্রায় এক বছর ধরে বন্দি জীবন কাটানো আইভীর সম্ভাব্য মুক্তির খবর ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভী শুধু আওয়ামী লীগের একজন নেতা নন, বরং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণেও নগরবাসীর একটি বড় অংশের সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকাকালেও ২০০৩ সালে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন। পরে সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে আইভীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এখনো দৃশ্যমান। নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে রেখেছে। ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

আইভীর সম্ভাব্য মুক্তির খবরে তার সমর্থকদের মধ্যেও নতুন করে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, তিনি মাঠে ফিরলে রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরেও শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। যদিও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তবে নগরবাসীর একাংশের অভিযোগ—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে আগের মতো জবাবদিহিতা নেই। জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা নাগরিক সমস্যা নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা না করলেও নাসিককে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ