নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ঝটিকা মিছিল। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, হাট-বাজার ও কোরবানির পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের মধ্যেই ফের মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
সর্বশেষ নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করেছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশই ছিলেন সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের অনুসারী বলে জানা গেছে। এর আগে শহরের জামতলা এলাকাতেও একই ধরনের মিছিল হয়েছে।
এদিকে আড়াইহাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিহত হওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের টেন্ডার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের অভিযোগও রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ কার্যক্রমের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবিতে ঝটিকা ও মশাল মিছিল করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব মিছিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান বাধা দেখা যায়নি। যদিও ফতুল্লায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অয়ন ওসমানের পোস্টার লাগানোর সময় একজনকে স্থানীয়রা আটক করে মারধর করেছে বলেও জানা গেছে।
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বিদেশ থেকে অর্থ সহায়তা পেয়ে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গভীর রাত কিংবা ভোরে ফাঁকা সড়কে হঠাৎ করে মিছিল বের করছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকা, জালকুড়ি ও পঞ্চবটি সড়কে এমন মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। মিছিল শেষে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে তারা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগে আওয়ামী লীগ ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলছেন, অতীতের সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হলে তা সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ঝটিকা মিছিল। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, হাট-বাজার ও কোরবানির পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের মধ্যেই ফের মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
সর্বশেষ নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় প্রকাশ্যে ঝটিকা মিছিল করেছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশই ছিলেন সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের অনুসারী বলে জানা গেছে। এর আগে শহরের জামতলা এলাকাতেও একই ধরনের মিছিল হয়েছে।
এদিকে আড়াইহাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিহত হওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের টেন্ডার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের অভিযোগও রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ কার্যক্রমের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবিতে ঝটিকা ও মশাল মিছিল করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব মিছিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান বাধা দেখা যায়নি। যদিও ফতুল্লায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অয়ন ওসমানের পোস্টার লাগানোর সময় একজনকে স্থানীয়রা আটক করে মারধর করেছে বলেও জানা গেছে।
বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ বিদেশ থেকে অর্থ সহায়তা পেয়ে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গভীর রাত কিংবা ভোরে ফাঁকা সড়কে হঠাৎ করে মিছিল বের করছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকা, জালকুড়ি ও পঞ্চবটি সড়কে এমন মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। মিছিল শেষে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে তারা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগে আওয়ামী লীগ ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলছেন, অতীতের সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তি হলে তা সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন